পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখাল বাঁকুড়ার মেজিয়ার একটি বড় শিল্প প্রকল্প। শুক্রবার বাঁকুড়া সফরে গিয়ে এই মেগা প্রকল্পের অফিশিয়াল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন ১৫ হাজার কোটি টাকার এই বিনিয়োগ প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
🚀 এক নজরে পুরো তথ্য
বাঁকুড়ায় কোন প্রকল্পের শিলান্যাস হল?
শুক্রবার বাঁকুড়ার মেজিয়া এলাকায় একটি ইস্পাত শিল্প সংস্থার কারখানা সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই সম্প্রসারণে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্পের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এটি বিবেচিত হবে।
বাঁকুড়া মেজিয়া শ্যাম স্টিল কারখানা সম্প্রসারণের মূল খুঁটিনাটি
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য (Official Data) |
| বিনিয়োগকারী সংস্থা | শ্যাম স্টিল গ্রুপ (Shyam Steel Group) |
| প্রকল্পের স্থান | মেজিয়া শিল্পাঞ্চল, বাঁকুড়া জেলা, পশ্চিমবঙ্গ |
| মোট বিনিয়োগের পরিমাণ | প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা |
| ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্ট বাজেট | প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা (২ মিলিয়ন টন বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন) |
| অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ | প্রতিরক্ষা উৎপাদন, রিয়াল এস্টেট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ, ইঞ্জিনিয়ারিং |
| আনুমানিক কর্মসংস্থান | প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে প্রায় ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ মানুষের চাকরি |
| উদ্বোধক | পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী |
| উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ | শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল |
আরো দেখুন – লেটেস্ট চাকরির খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
আরো দেখুন – বিভিন্ন সরকারি যোজনার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
আরো দেখুন – বিভিন্ন স্কলারশিপ এর খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
২০ হাজার কর্মসংস্থানের ঘোষণা
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে প্রায় ২০ হাজার মানুষের চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।
এছাড়া শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ চালু হলে প্রায় ৭৫ হাজার মানুষের জীবিকা বা অন্নসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান দুটিই রয়েছে।
কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নতুন শিল্প বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা চলছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে—
- বড় অঙ্কের শিল্প বিনিয়োগ আসছে।
- শিল্পভিত্তিক নতুন চাকরির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
- বাঁকুড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বাড়তে পারে।
- আনুষঙ্গিক (Ancillary) শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ ও নতুন কাজের ক্ষেত্র
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় উদ্দেশ্য হলো বাংলার যুবসমাজ ও পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিনরাজ্য থেকে ফিরিয়ে এনে নিজেদের এলাকাতেই কাজের সুযোগ করে দেওয়া। শিলান্যাস অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ থেকে রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, কাজের সন্ধানে বাংলার যুবকদের আর বাইরে পাড়ি দিতে হবে না।
ইস্পাত কারখানার মতো একটি বড় শিল্প যখন কোনো অঞ্চলে গড়ে ওঠে, তখন তার হাত ধরে কেবল কারখানার ভেতরেই নয়, বরং বাইরেও বিপুল কাজের সুযোগ তৈরি হয়।
কী কী ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হবে?
১. কারখানার মূল টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল পদ: ইঞ্জিনিয়ারিং, প্ল্যান্ট অপারেশন, মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল মেইনটেন্যান্স এবং সিকিউরিটি। ২. পরিবহণ ও লজিস্টিকস (Transport & Logistics): কাঁচামাল আনা-নেওয়া এবং উৎপাদিত ইস্পাত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কয়েক হাজার ট্রাক, লরি ও চালকের প্রয়োজন হবে। ৩. অনুষঙ্গী ও সহায়তাকারী শিল্প (Ancillary Industries): মূল কারখানাকে কেন্দ্র করে ছোট-বড় একাধিক সাপ্লাই চেইন ও স্পেয়ার পার্টস তৈরির ছোট কারখানা গড়ে উঠবে। ৪. স্থানীয় ব্যবসা ও পরিষেবা: আবাসন, খুচরো ব্যবসা, নির্মাণ সামগ্রীর জোগান এবং খাদ্যের হোটেল বা ক্যান্টিন ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার বিপুল সুযোগ থাকছে।
শিল্পবান্ধব পরিবেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য আসন্ন প্রজেক্ট
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে রাজ্যে সম্পূর্ণ সিন্ডিকেট-মুক্ত, তোলাবাজিহীন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ফ্যাক্টরির গেটে ঝামেলা বা বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও কয়েকটি বড় লগ্নির ঘোষণা করেছেন যা আগামী কয়েক মাসে রাজ্যে কার্যকর হতে চলেছে:
- দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট: আগামী আগস্ট মাসের ১৫ তারিখের পর দুর্গাপুরে আরও একটি নতুন স্টিল প্ল্যান্টের জন্য ৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে চলেছে।
- ডানকুনি ও সাঁকরাইল: ডানকুনিতে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজের হোসিয়ারি উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং সাঁকরাইলে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে আমূল (Amul) ডেয়ারি কারখানার ভার্চুয়াল উদ্বোধন হতে চলেছে।
- হরিণঘাটা ও দাদনপাত্রবাড়: পুজোর আগেই নদীয়া জেলার হরিণঘাটায় ফ্লিপকার্টের (Flipkart) বিশাল লজিস্টিক হাব পুরোদমে চালু হয়ে যাবে। এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে আদানি গ্রুপের বন্দর তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।











